ভারতে সদ্য সমাপ্ত কর্নাটকের ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রতিযগীতায় রাজ্যে ২২৪ আসনের মধ্যে ষাটের ঘরে নেমে গিয়েছে বিজেপির আসনসংখ্যা। একে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সেই আবহেই দেশজুড়ে প্রচারে নামতে চাইছে বিজেপি। উপলক্ষ্য— নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বের ন' বছর।
আগামী ৩০ মে থেকে ৩০ জুন—এই এক মাস বিজেপি দেশজুড়ে নয়া প্রচারাভিযানে নামছে। শুরুর দু’দিন নিজে জনসভা করবেন নরেন্দ্র মোদী। তবে সেই দুই জনসভার স্থান এখনও ঠিক হয়নি। বিজেপির পরিকল্পনা—মোট ৫১টি বড় জনসভা হবে। যেখানে যোগ দেবেন দলের একেবারে শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
এর বাইরে ৩৯৬টি লোকসভা আসনকে পাখির চোখ করে প্রচার চালাবে বিজেপি। সেই প্রচারে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও জাতীয় স্তরের নেতারা। প্রতিটি লোকসভায় ২৫০ পরিবারের সঙ্গে জনসম্পর্ক করবেন নেতারা। এই কাজে থাকবেন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা। যে যে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় নেই সেখানে বিরোধী দলের নেতা ও রাজ্য নেতারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
মূলত এই প্রচারাভিযানকে ত্রিস্তরীয় করতে চাইছে বিজেপি। আগামী ২৯ মে সব রাজ্য কমিটি নিজেদের রাজ্যের কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে পরিকল্পনা জানাবে।
তবে যে সব রাজ্যে ভোট আসছে সেই রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, তেলেঙ্গানায় কী কী কর্মসূচি হবে তা ঠিক করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এইসব রাজ্যে মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক মাসে দু’বার করে যেতে পারেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে।
'আচ্ছে দিন'-এর স্লোগান দিয়েই ২৯১৪-এ ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদী। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, এখন আর সেসব কথা খুব একটা গেরুয়া নেতাদের গলায় শোনা যায় না। তবে এই প্রচারে উজ্জ্বলা যোজনা-সহ সামাজিক প্রকল্পের কথা সামনে আনতে পারে গেরুয়া শিবির। এ ব্যাপারে আবার কংগ্রেস মুখপাত্র প্রণব ঝা বলেন, "সবই তো পুরনো। মোদীর নিজের কী আছে সেটা বলুন।"
কর্নাটকের ভোট বিজেপির জন্য এই কারণেই অশনি সঙ্কেত বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন তা হল, দক্ষিণের রাজ্যটিতে মোদী-শাহের উগ্র হিন্দুত্বের লাইনকে মানুষ একেবারে প্রত্যাখ্যান করেছে।