ভারতে বসেই পাকিস্তানি গুপ্তচরদের জন্য তথ্য সংগ্রহে গ্রেফতার তিন ভারতীয়

ভারতের মাটিতে বসেই পাকিস্তানি গুপ্তচরদের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছিল তারা। বেআইনিভাবে সাধারণ মানুষের নাম এবং পরিচয় পত্র ব্যবহার করে তা দিয়ে অজস্র সিমকার্ড সংগ্রহ করছিল। তারপর সেই সিমকার্ডের সাহায্যে ওটিপি জেনারেট করে তা পাঠিয়ে দিচ্ছিল পাকিস্তানি ইন্টেলিজেন্স অপারেটিভস এবং আইএসআই এজেন্টদের কাছে। একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে রবিবার ১৪ মে গ্রেফতার করেছে ওড়িশা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ।

এসটিএফের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ধৃতরা অবৈধভাবে সাধারণ নাগরিকদের তথ্য ব্যবহার করে সিমকার্ড সংগ্রহ করছিল। তারপর সেই সিম কার্ডে আসা ওটিপি তারা বিক্রি করছিল পাকিস্তান এবং ভারতে থাকা আইএসআই এজেন্ট এবং পিআইও-কে। ভারতে লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানি গুপ্তচররা তাদের টাকা দিত। গত বছর রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল একজন মহিলা পিআইও এজেন্টকে। ওই মহিলার সঙ্গেও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধৃতরা হল পাঠানিসামন্ত লেংকা (৩৫), সরোজ কুমার নায়েক (২৬) এবং সৌম্য পট্টনায়ক (১৯)। এদের মধ্যে পাঠানিসামন্ত একজন আইটিআই শিক্ষক ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ১৯টি মোবাইল ফোন, ৪৭টি সিমকার্ড, ৬১টি এটিএম কার্ড, ২৩টি সিমের কভার এবং একাধিক ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন শপিং সাইট অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট ব্যবহার করে ওটিপি জেনারেট করত অভিযুক্তরা। সেগুলি দিয়ে ইমেল আইডি তৈরি করা হত। ‘"লোকে ভাববে এই অ্যাকাউন্টগুলি ভারতীয়দের। কিন্তু আসলে সেগুলো পাকিস্তান থেকে চালানো হত," জানিয়েছে পুলিশ।

তাঁরা আরও জানিয়েছেন, এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির সাহায্যে বিভিন্ন ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ যেমন, গুপ্তচরবৃত্তি, জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, মৌলবাদে দীক্ষিত করা, ভারত-বিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়ানো, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত-বিরোধী মতবাদে ইন্ধন দেওয়া, সেক্সটরশন, হানি-ট্র্যাপিং ইত্যাদি কাজ করা হত। সমস্ত অ্যাকাউন্টগুলিই আপাতভাবে নিরীহ ভারতীয়দের নামে থাকা ফোন নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত।

অনলাইন শপিং সাইটে খোলা অ্যাকাউন্টগুলোর সাহায্যে সন্ত্রাসবাদীদের বিভিন্ন জিনিস সরবরাহ করা হত। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেগুলি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত লোকজনদের বিক্রিও করত তারা, জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।