ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকে সদ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর চারদিন কেটে গেলেও এখনও বুধবার ১৭ মে পর্যন্ত সে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারল না বিজয়ী দল কংগ্রেস। ফলে পূর্ব ঘোষণা মতো বৃহস্পতিবার ১৮ মে নতুন মন্ত্রীসভার শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বুধবার বিকালে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা জানান, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন মন্ত্রীসভা শপথ নেবে। অর্থাৎ সাতদিন গড়াতে পারে নতুন মন্ত্রীসভা গঠন হতে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বলতে শুরু করেছে, 'বাসবরাজ বোম্মাই আর কতদিন কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। এই হল কংগ্রেস। চারদিন হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করতে পারল না।'
বুধবার দুপুরেই কংগ্রেস মহল থেকে বলা হয়েছিল সিদ্দারামইয়া মুখ্যমন্ত্রী হবেন। শিবকুমার হবেন উপমুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের ভার দেওয়া হবে। সংখ্যাটা ছয় পর্যন্ত হতে পারে বলেও কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমের খবর। এছাড়া তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদে যেমন ছিলেন থাকবেন।
কিন্তু সংবাদসূত্রে খবর শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হতে অনড়। আর যদি আড়াই বছর করে ভাগাভাগী করে সরকার চালাতে হয় তাহলে তাঁকে আগে মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে।
তাঁর শিবিরের দাবি, সাড়ে তিন বছর আগে সিদ্দারামইয়ার জন্যই কংগ্রেসের ঘর ভেঙে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল। পরের সাড়ে তিন বছর দলকে বিজেপির থাবা থেকে রক্ষা করা এবং আন্দোলনমুখী রাখার মূল ভূমিকা ছিল শিবকুমারের। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার তাঁরই প্রাপ্য।
যদিও মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে শিবকুমার বলেছিলেন, "হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত। আমি কারও সঙ্গে লড়াইয়ে নেই।" কিন্তু দিল্লি এসে মত বদলে ফেলেছেন।বুধবার বিকালে তিনি ও সিদ্দারামইয়া আলাদা আলাদাভাবে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। কংগ্রেস সূত্রের খবর রাহুল গান্ধী সিদ্দারামইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষপাতী।
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর শিবকুমার দিল্লিতে তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে অনুগামীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন।