অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিতর্কিত 'দ্য কেরালা স্টোরি' নিয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে অগ্নিগর্ভ মহারাষ্ট্রের আকোলা, নিহত ১


বিতর্কিত 'দ্য কেরালা স্টোরি' নিয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে অগ্নিগর্ভ মহারাষ্ট্রের আকোলা, নিহত ১
বিতর্কিত 'দ্য কেরালা স্টোরি' নিয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে অগ্নিগর্ভ মহারাষ্ট্রের আকোলা, নিহত ১

ভারতে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ দেশ জুড়ে বিতর্ক ও উত্তেজনা বাড়ছে। সিনেমাটি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে মহারাষ্ট্রের আকোলা এলাকা। ছড়িয়ে পড়েছে হিংসা, অশান্তি। প্রাণও হারিয়েছেন এক ব্যক্তি। আহত হয়েছেন দুই পুলিশ-সহ একাধিক। পরিস্থিতি অশান্ত করতে মদত দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রশাসন ও পুলিশের তরফে সতর্কতা জারি হয়েছে গোটা মহারাষ্ট্রে।

সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করা হয় সংখ্যালঘু কোনও সংগঠনের তরফে। তাতে দাবি করা হয়, ওই সিনেমায় পয়গম্বরকে অপমান করা হয়েছে। এই পোস্টকে কেন্দ্র করেই আকোলা এলাকায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রামদাসপেঠ থানায় ঘেরাও করে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। আকোলার পুরান সিটি থানার সামনেও ভিড় জমা হতে শুরু করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উন্মত্ত জনতা আগুন ধরিয়ে দেয় দোকানে,গাড়িতে।

এসবের মাঝেই হিংসার শিকার হন বিলাস গায়কোড়ে নামে এক স্থানীয় ইলেকট্রিসিয়ান। বছর চল্লিশের বিলাসের মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। চলে দেদার পাথরবৃষ্টিও। লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে, ছুড়তে হয় কাঁদানে গ্যাস।

দিনভর হিংসার জেরে সোমবার ১৫ মে আকোলা-সহ একাধিক এলাকায় বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। বেশ কিছু জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, বিলাসের মৃত্যুতে যারা দায়ী, তাদের খুঁজে বার করা হবে।

স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রণধীর সাভারকরের দাবি, রীতিমতো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে হিংসা ছড়িয়েছে সংখ্যালঘুরা। আবার এলাকার কাউন্সিলর, বিরোধী দলনেতা সাজিদ খানের দাবি, অশান্তি ঠেকাতে ব্যর্থ পুলিশ।

প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার উপর কড়া নজর রেখেছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস নিজে। ইতিমধ্যেই আকোলায় অতিরিক্তি পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়েছে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্ত থেকে। সমস্ত পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের বাড়তি সতর্কতা নিতেও বলা হয়েছে। গোটা ঘটনার পিছনে কি নিছকই বিচ্ছিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টই দায়ী নাকি সংগঠিত কোনও চক্র সক্রিয়, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

XS
SM
MD
LG