ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী জুন মাসে রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে ২২ জুন তাঁর সেখানে যাওয়ার কথা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন কুড়ি আগে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন জাতীয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও । রাহুল কাদের আমন্ত্রণে যাচ্ছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি দশ দিনের সফরে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকবেন। তাঁর সফর জুড়ে থাকছে একাধিক সভায় ভাষণ ও আলোচনায় অংশ নেওয়া।
সদ্যই কর্নাটকের বিধানসভার ভোটে জয়ের মুখ দেখেছে কংগ্রেস । যে ফলাফলে রাহুলের বিশেষ অবদান রয়েছে বলে মনে করছে দল। অন্যদিকে, কর্নাটকের ফলকে ব্যক্তি মোদীর পরাজয় মনে করেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দক্ষিণের ওই রাজ্যে বিজেপির প্রচার ছিল মোদীকেন্দ্রীক।
স্বভাবতই প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন রাহুল নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাজির করবেন। রাহুল বছরের গোড়ায় লন্ডন সফরে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রের বিপন্নতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। কংগ্রেস নেতাকে এজন্য বিজেপির তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকী প্রধানমন্ত্রী মোদীও লন্ডন ভাষণকে দেশের অবমাননা বলে রাহুলের বিরুদ্ধে নাম না করে সরব হন। সংসদেও বিজেপি রাহুলের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হয়। কর্নাটকের ভোটেও এই ইস্যুতে বিজেপি নিশানা করে রাহুলকে। যদিও কংগ্রেস নেতা ক্ষমা চাননি।
এবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাহুল কী বলবেন তা নিয়ে তুমুল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির এই সফর শুরু হবে ৩১ মে। ৪ জুন নিউ ইয়র্কে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন অডিটোরিয়ামে রাহুল ভাষণ দেবেন প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে। সেখানে পাঁচ হাজার জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
২০১৪ তে মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ওই বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সভায় যোগ দিতে গিয়ে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে ভাষণ দিয়ে তুমুল সাড়া পেয়েছিলেন। রাহুল এই সফরেও গণতন্ত্র নিয়ে মুখ খোলেন কিনা সেটাই দেখার। মনে করা হচ্ছে, আগামী বছর লোকসভা ভোটের আগে দুই নেতাই চেষ্টা করবেন প্রবাসী ভারতীয়দের মনে দাগ কেটে দেশের ভোটে ফায়দা তুলতে।
প্রধানমন্ত্রীর ২২ জুন নিউ ইয়র্কে পৌঁছনোর কথা। তিনি এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদী এক ডজন বার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। তবে সেগুলি ছিল সরকারি সফর। রাষ্ট্রীয় সফর নয়। রাষ্ট্রীয় সফরে প্রেসিডেন্ট নিজে আমন্ত্রণপত্র পাঠান এবং অতিথির সম্মানে হোয়াইট হাউসে নৈশ ভোজ দেওয়া হয়। মোদীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।